Skin Care

ভিটামিন সি ফেসওয়াশ এবং আর্থ বিউটি অ্যান্ড ইউ

বেশ কিছুদিন ধরেই লক্ষ্য করছিলাম যে আমার স্কিন খুব নিষ্প্রান হয়ে পড়ছিলো সাথে আমার ফেইসের গ্লো হারিয়ে যাচ্ছিলো। আর এমন হবে না-ই বা কেনো! কারণ ডেইলি বাইরে আসা যাওয়া করে ধুলাবালিতে স্কিনের অবস্থা নাজেহাল হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমি প্রথমে ব্যাপারটা নিয়ে এতো একটা চিন্তিত না হলেও আমার চিন্তা শুরু হয়ে গেলো তখনই যখন দেখলাম ডালনেস এর পাশাপাশি স্কিনের পোরসগুলো ক্লগ হয়ে যাচ্ছে আর স্কিনে বাম্পস সহ একনে ব্রেক-ডাউন হচ্ছে। কি ব্যাবহার করবো আর কি না এটা নিয়ে পড়ে গেলাম এর মহাবিপাকে। আরেকদিকে স্কিনের এই অবস্থা দেখে নিজের উপর আমার কনফিডেন্সই হারিয়ে ফেলছিলাম। তখন ইন্টারনেটে সার্চ করা শুরু করলাম আমার স্কিন কন্ডিশনের সলিউশন পাওয়া নিয়ে। অনেক অনেক প্রডাক্টস দেখার পর হঠাৎ-ই চোখে পড়লো আর্থ বিউটি এন্ড ইউ এর ভিটামিন সি পিউরিফায়িং ফেইসওয়াশ এর উপর। প্রথমত এই ব্র্যান্ডটি নিয়ে বিগত কিছুদিন ধরেই অনেকের অনেক ভিডিও রিভিউ দেখছিলাম। ট্রাই করার ইচ্ছা থাকলেও আমার তেমন প্রয়োজন না পড়ায় আর কেনা হয়ে ওঠেনি। কিন্ত এই ভিটামিন সি পিউরিফায়িং ফেইসওয়াশটি আমার বর্তমান স্কিন কন্ডিশনের জন্য একদম পারফেক্ট মনে হচ্ছিলো, তাই দেরি না করে কিনে ফেলি আর্থ বিউটি এন্ড ইউ এর ভিটামিন সি পিউরিফায়িং ফেইসওয়াশটি। ফেইসওয়াশটি ব্যাবহার করে সবমিলিয়ে আমার কেমন লাগলো বা আমি কোনো উপকার আসলেও পেলাম কিনা তা নিয়েই আজকে ডিটেইলসে কথা বলবো। 

 

প্যাকেজিং – যেকোনো জিনিস কেনার ক্ষেত্রেই আমি আগে দর্শনধারি এরপর গুনবিচারি। মানে যেকোনো প্রডাক্টের প্যাকেজিং দেখে সুন্দর মনে হলেই তা ব্যাবহার করার একটা আলাদা ঝোঁক কাজ করে আমার মধ্যে। জানি এটা করা ঠিক না হয়তো কিন্তু তারপরও প্যাকেজিং ম্যাটার করে আমার কাছে অনেক। তো আসা যাক আসল কথায়। আমি যখন এই ফেইসওয়াশটি কিনবো ঠিক করে ফেললাম তখন এর প্যাকেজিং ভালো করে খেয়াল করলাম। আর খুব খুব বাজেট ফ্রেন্ডলি প্রাইসের একটা প্রডাক্ট হিসেবে এর প্যাকেজিং আমার কাছে অনেক ভালো আর সুন্দর মনে হয়েছে। ভিটামিন সি ফেইসওয়াশ হওয়ায় অরেঞ্জ আর হোয়াইট কালার করা হয়েছে প্যাকেজিং। দাম অনুযায়ী ১০০ মি.লি. সাইজটা বেশ বড়। প্যাকের গায়ে এর ইনগ্রিডিয়েন্টস আর এটা কি কি কাজ করে তা লেখা আছে। মিনারেল অয়েল আর সিলিকন ফ্রি হওয়ার কথাও লেখা রয়েছে এতে। সবমিলিয়ে কালার কম্বিনেশন আর প্যাকেজিং-এর মান আমার কাছে অনেক ভালো লেগেছে। 

 

কন্সিসটেন্সি আর স্মেল – ফেইসওয়াশটি সাদা রঙয়ের হয় এবং বেশ থিক হওয়ায় ফোম তৈরি হয় ভালোভাবে। স্মেলের কথা যদি বলতে যাই তাহলে বলবো এর স্মেল অনেক রিফ্রেশিং আর পারফেক্ট অরেঞ্জি একটা স্মেল যা এটা দিয়ে মুখ ধোয়ার সময় একদম মন ভালো করে দেয়ার মতো। 

 

অরিজিন – এটি আমাদের নিজস্ব দেশীয় ব্র্যান্ড। ভিটামিন সি এর উপকারিতা আর প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখেই এই ফেইসওয়াশটি তৈরি করা হয়েছে।

 

আমি কেনো ভিটামিন সি পিউরিফায়িং ফেইসওয়াশটি কিনলাম?

 

আমি সবময়ই জানি যে ভিটামিন সি স্কিনের জন্য একটা নতুন শুরুর মতো। তাই যখন দেখলাম আমার স্কিন ব্রাইটনেস হারিয়ে ফেলছে আর ব্রেক-আউটস হচ্ছে তখন আমি ভিটামিন সি- কেই প্রথম পছন্দ হিসেবে রাখি। আর আর্থ বিউটি এন্ড ইউ এর ভিটামিন সি পিউরিফায়িং ফেইসওয়াশটি ক্লেইম করে এটি একটি জেন্টাল ফর্মুলার ফেইসওয়াশ। এছাড়াও এতে রয়েছে ভিটামিন সি, স্যালিসাইলিক অ্যাসিড এবং অরেঞ্জ এসেন্সিয়াল অয়েলস একই সাথে স্কিনে দেয় ব্রাইটনেস, পোরস ক্লগ না করে জেন্টলি পোরস ক্লিন করে আর স্কিনের হেলদি থাকা নিশ্চিত করে। আমার স্কিনে যেহেতু একনে হচ্ছিলো তাই আমি স্যালিসাইলিক অ্যাসিড আছে এইরকম কিছু ব্যাবহার করাটাই ভালো মনে করছিলাম। আর এই ফেইসওয়াশে যেহেতু ভিটামিন সি আর স্যালিসাইলিক অ্যাসিড একসাথেই আছে তাই আমি এটি কিনলাম। আর এটি সব ধরনের স্কিনের জন্যই উপযোগী তাই কেনার সময় স্কিন টাইপ নিয়ে চিন্তাও করতে হলো না। 

 

ব্যাবহার করে কি কি উপকার পেলাম – বাজেট ফ্রেন্ডলি একটি ফেইসওয়াশ থেকে আমি অনেক বেশি কিছু আশা করিনি কিন্ত ব্যাবহার করার পর আসলেও এর প্রেমে পড়ে যেতে হলো। ব্যাবহার শুরুর ৭-১০দিনের মাথায় আমি লক্ষ্য করি আমার স্কিন আস্তে আস্তে ব্রাইট হতে শুরু করে। এবং যখনই এটি দিয়ে মুখ ধুতাম আমার স্কিন একদম ড্রাই ফিল হতো না এবং এর স্মেল একদম মাইন্ড রিফ্রেশ করে দিতো। মুখ ধোয়ার পর স্কিন যে আসলেও ভেতর থেকে পরিস্কার হয়েছে তা আমি ফিল করতে পারতাম। প্রায় একমাস ব্যাবহারের পর আমার স্কিন হয়ে উঠলো আগের চেয়ে অনেক ব্রাইট, ফ্রেশ আর হেলদি। 

 

আমি আসলেও সাজেস্ট করবো এই ফেইসওয়াশটি ব্যাবহার করতে। যারা স্কিন কেয়ারের জন্য অনেক প্রডাক্ট কিনতে চান না বা অনেক বেশি টাকা ব্যয় করতে চান না, তাদের উচিত অন্তত ভালো মানের একটা ফেইসওয়াশ ব্যাবহার করা। আর এর জন্য বাজেটের মধ্যে  আর আর্থ বিউটি এন্ড ইউ এর ভিটামিন সি পিউরিফায়িং ফেইসওয়াশটি হতে পারে আপনার জন্য একটা পারফেক্ট চয়েজ। স্যালিসাইলিক অ্যাসিড থাকায় আমি বলবো ১৫ বছরের নিচের কেউ এটি ব্যাবহার না করাই ভালো। এছাড়া যে কেউ ব্যাবহার করতে পারবেন ফেইসওয়াশটি অনায়াসেই। 

 

কোথায় পাওয়া যাবে? 

 

 আর আর্থ বিউটি এন্ড ইউ এর ভিটামিন সি পিউরিফায়িং ফেইসওয়াশটি অনেক জায়গায়ই পেয়ে যাবেন। www.luvit.com.bd – এই ওয়েবসাইট থেকে আমি কিনেছিলাম। এখানে অফার প্রাইসে পেয়ে গিয়েছিলাম। এছাড়াও আপনি সরাসরি  আর আর্থ বিউটি এন্ড ইউ এর অনলাইন পেইজ থেকেও কিনতে পারবেন ফেইসওয়াশটি। 

Leave a Reply

Your email address will not be published.