Food

এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল এর গুণাগুণ

 

স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে আমরা কি না করি! তারপরও অনেক সময় দেখা যায় ডায়েটের পিছে অনেক সময় দিয়েও আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্য আমরা পেতে পারিনা। অনেক সময় আবার না বুঝে ডায়েটের নামে সব খাওয়া ছেড়ে দিয়ে অনেকেই অনেক বড় রোগে আক্রান্ত  হয়ে পড়ি। ডায়েট কিন্ত খুব কঠিন কিছু না যদি আমরা কিছু বেসিক জেনে থাকি। আর ডায়েটের একটা প্রধান বেসিক হলো হেলদি ফ্যাট খাওয়া। এখন কি ভাবছেন ফ্যাট আবার হেলদি হয় কিভাবে!! হেলদি ফ্যাট খেতে হলে আপনার রেগুলার সয়াবিন তেল বাদ দিয়ে খাবারে ব্যাবহার করতে হবে অলিভ অয়েল। আর তা যদি হয় এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল তাহলে তো বেস্ট হয়। কারণ নরমাল অলিভ অয়েলের চেয়ে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল বেশি হেলদি আর এর গুনাবলিও অনেক বেশি।

 

 

স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল

আমরা সবাই জানি হাই-ব্লাড প্রেশার অনেক দীর্ঘস্থায়ী একটি স্বাস্থ্য জটিলতা। বর্তমান স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেয় যে ব্লাড প্রেশার কমাতে পারে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল!

আমাদের স্কিন হেলদি রাখতে এর বিকল্প নেই। অলিভ অয়েলে পাওয়া পলিফেনল, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করে।

এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলে রয়েছে ওমেগা ৬ এবং ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, এবং এলিক অ্যাসিড নামক মনস্যাচুরেটেড ফ্যাট। গবেষণায় দেখা গেছে, এলিক অ্যাসিড এন্টি-ইনফ্লেমেটরি ড্রাগ হিসেবে কাজ করে। শুধু তাই নয়, ক্যান্সার সেল বৃদ্ধিও আটকায় অলিভ অয়েল।

আপনারা জানলে অবাক হবেন, অলিভ অয়েলে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে। এতে উপকারী ফ্যাটি অ্যাসিড ছাড়াও রয়েছে ভিটামিন ই এবং কে। অলিভ অয়েলে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট কঠিন অসুখ থেকেও মুক্তি দেয়। রক্তের কোলেস্টেরলকে ক্লিয়ার করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

এছাড়াও দীর্ঘস্থায়ী রোগ যেমন- ক্যান্সার, হৃদরোগ, হজমে সমস্যা, টাইপ ২ ডায়াবেটিস, আলঝেইমার, আর্থ্রাইটিস এবং স্থূলতার সঙ্গে লাড়াই করে অলিভ অয়েলের এন্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য। বিজ্ঞানীদের ধারণা, সাড়ে ৩ চামচ এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এন্টি-ইনফ্লেমেটরি হিসেবে ওলিওকান্থাল আইবুপ্রোফেন ওষুধের কাজ করে।

আপনারা জানলে নিশ্চিন্ত হবেন,এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল স্ট্রোক প্রতিরোধে সহায়তা করতে পারে। শুধু তাই নয়, রক্ত জমাট বাঁধা বা রক্তক্ষরণের কারণে মস্তিষ্কে রক্ত প্রবাহে ব্যাঘাত ঘটে। আর এ কারণেই স্ট্রোক হয়। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে স্ট্রোকে মৃত্যুর হার অনেক বেশি। ৮ লাখ ৪১ হাজার মানুষের উপর গবেষণা করে দেখা গেছে, অলিভ অয়েলে থাকা মনস্যাচুরেটেড ফ্যাট স্ট্রোক ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

 

আনকন্ট্রোল্ড লাইফস্টাইলের কারণে হৃদরোগে আক্রান্তের হার দিনকে দিন বাড়ছে। বিশেষ করে ফাস্টফুডজাতীয় খাবার রোগের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। আর ফাস্টফুডজাতীয় খাবারগুলো তৈরি করা হয় সয়াবিন তেল দিয়ে। এজন্য অলিভ অয়েল যারা নিয়মিত ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে হৃদরোগ হওয়ার আশঙ্কা অনেকাংশেই কম থাকে।

যদিও অলিভ অয়েল ওজন বৃদ্ধি বা কমার সঙ্গে রিলেটেড না। তবে ৭ হাজার স্প্যানিশ কলেজ ছাত্র-ছাত্রীদের উপর ১ মাস গবেষণা চালিয়ে দেখা গেছে, প্রচুর পরিমাণে অলিভ অয়েল কনজিউম করেও তাদের ওজন বাড়েনি। অন্যদিকে ১৮৭ জনের উপর ৩ বছর মেয়াদী এক গবেষণায় দেখা গেছে, অলিভ অয়েলের খাবার রক্তে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের পরিমাণ বাড়ায়, যা ওজন কমাতে সাহায্য করে।

৪০ বছরের পর থেকে অনেকেই আলঝেইমার রোগে ভুগে থাকেন। এক্ষত্রে এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি সবকিছু ভুলতে শুরু করেন। অলিভ অয়েল আলঝেইমার রোগের সঙ্গে লড়াই করে। আলঝেইমার রোগটি বিশ্বের সর্বাধিক নিউরোডিজেনারেটিভ ডিসঅর্ডার। এই রোগ হলে ব্রেইন সেল-এর ভেতরে অ্যামাইলয়েড বিটা নামের একধরনের প্রোটিনের প্রোডাকশন বাড়ে।

পাশাপাশি, রিউম্যাটয়েড আর্থ্রাইটিসের সমস্যায় অনেকেই ভুগে থাকেন। বিশেষ করে বয়স হলে শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টের ব্যথা বেড়ে যায়। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস হলো একটি অটোইমিউন রোগ। জলপাই তেলে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদানসমূহ আর্থ্রাইটিস থেকে মুক্তি দেয়। একটি স্টাডি-তে দেখা গেছে, অলিভ অয়েল ও ফিশ অয়েল জয়েন্ট এবং বাতজনিত রোগ থেকে আমাদেরকে প্রোটেক্ট করে।

অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল গুণসম্পন্ন অলিভ অয়েল শরীরের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়াগুলোকে ধ্বংস করে। এর মধ্যে একটি হেলিকোব্যাক্টর পাইলোরি। এই জীবাণু পেটে বাসা বাঁধায় আলসার এবং স্টমাক ক্যান্সার সৃষ্টি করে। টেস্ট-টিউব এক্সপেরিমেন্টে দেখা গেছে, এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল এই ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে ফাইট করে।

রূপচর্চায় এক্ট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল

আপনারা কি একটি ইন্টেরেস্টিং বিষয় জানেন? এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল নখ ভেঙ্গে যাওয়া দূর করে এবং নখের বাইরের চামড়ার অংশ সুস্থ এবং সুন্দর রাখে। এটা কার্যকর করতে কয়েক ড্রপ ক্ল্যারিস এক্সট্রা ভার্জিন অয়েল হাতের আঙ্গুলে নিয়ে নখের উপরের দিক এবং চারপাশে ভালোভাবে মালিশ করতে হবে। এতে আস্তে আস্তে নখের ভঙ্গুরতা কমে যাবে, এবং আপনার নখকে করবে আর সুন্দর এবং স্ট্রং।  

ফুড হ্যাবিট-এ এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল

 

আমরা যারা আমাদের অতিরিক্ত ওজন নিয়ে প্রচণ্ড দুশ্চিন্তাগ্রস্থ, তাদের জন্য এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলের চেয়ে ভালো সলিউশন চিন্তাই করা যায় না! অলিভ অয়েলের ভিটামিন-ই, ফ্ল্যাভেন-৩-ওলস, অ্যানথোসায়ানিন, ওজন কমাতে পারে। তাছাড়াও এই অয়েল যেমন ভালো হজমে সাহায্য করেই, তেমনি রক্তের সুগার নিয়ন্ত্রণ করতেও হেল্প করে। আর ফুড হ্যাবিটে আপনার বেস্টফ্রেন্ড হতে পারে ক্ল্যারিস এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল।

ফুড উইথ এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল-

 

সতে মাশরুম –

 

 প্রথমে ৫০০ গ্রাম মাশরুমগুলিকে দ্রুত ধুয়ে পরিষ্কার করুন বা, একটি কাগজের তোয়ালে দিয়ে মুছে দিন। সেগুলোকে স্লাইস করে একপাশে কেটে রাখুন।  অল্প তাপে ৩ টেবিল চামচ এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল গরম করুন। বাজারে অনেক ব্র্যান্ডের এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল পেয়ে যাবেন। নিশ্চই এখন ভাবতে পারেন যে কোন ব্র্যান্ডের অলিভ অয়েল কিনবেন। আপনি সহজেই বেছে নিতে পারেন ক্ল্যারিসের এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল, কারন এটি ভিটামিন ই এবং কে- সমৃদ্ধ।  ১ চা চামচ সূক্ষ্মভাবে কাটা রসুন অ্যাড করুন এবং সুগন্ধি না হওয়া পর্যন্ত কয়েক সেকেন্ডের জন্য ভাজুন। রসুনটাকে বাদামী করবেন না, কারণ এটি একটি তিতা ফ্লেভার হতে পারে। এবার কাটা মাশরুমগুলোকে যোগ করুন এবং তেল আর রসুনের সাথে মিশিয়ে নাড়ুন। এরপর প্রয়োজনমতো / চা চামচ ফ্রেশ গুঁড়ো করা কালো মরিচ, এবং / চা চামচ পাপরিকা এবং লবণ যোগ করুন। খুব ভালো করে মেশান। মাঝারি আঁচে, মাশরুমগুলি প্রায়শই নাড়তে থাকুন সতে করার জন্য। দেখতে মাশরুমগুলো ধিরে ধিরে পানি ছাড়ছে। যতক্ষণ না সমস্ত পানি শুকিয়ে যায় এবং মাশরুমগুলি চকচকে দেখায় ততক্ষণ পর্যন্ত ভাজতে থাকুন। পানি শুকিয়ে গেলে আঁচ কমিয়ে নিন। স্বাদ বাড়াতে ১ থেকে ৩ টেবিল চামচ সূক্ষ্মভাবে কাটা পার্সলে যোগ করুন। পুরোটা নাড়তে থাকুন এবং এক মিনিটের জন্য সতে (ভাজা) করুন। স্বাদ এবং প্রয়োজনমতো মসলা এড করুন।  অতিরিক্ত পার্সলে দিয়ে মাশরুম পরিবেশন করুন, এবং যদি ইচ্ছা হয়, আপনার পছন্দের পনিরও এড করতে পারেন।“

বেস! তৈরি হয়ে গেলো সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যসম্মত “সতে মাশরুম উইত এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল।“  

 

সালাদ ড্রেসিং –

 সালাদের ড্রেসিং-এ যদি এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল ব্যাবহার করা হয় তাহলে সালাদ হয়ে ওঠে আরো বেশি হেলদি এবং টেস্টি।

ড্রেসিং বানাতে-

প্রথমেই নিয়ে নিতে হবে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল আর এর জন্য অলরেডি জানেন বেস্ট হচ্ছে ক্ল্যারিস এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল। এরপর লেবুর রস, গোলমরিচের গুড়া, স্বাদমতো লবণ একসাথে মিশিয়ে তৈরি করে ফেলুন হেলদি এবং টেস্টি সালাদ ড্রেসিং যা আপনার হেলদি সালাদকে আরো বেশি হেলদি করে তুলবে।

এছাড়াও  গ্রিল, প্যান-ফ্রাইং এর মতো রান্নার কাজেও ব্যাবহার করা যায় এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল।

আর এখন কোন এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল কিনবো তা নিয়ে কনফিউজড না থেকে ব্যাবহার করুন ক্ল্যারিস এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল। কারণ উপরে লেখা সকল হেলথ বেনেফিটের নিশ্চয়তা দেয় আপনাকে ক্ল্যারিস এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল।

 

লিখেছেন –
রাবেয়া চৌধুরী পিয়া

Leave a Reply

Your email address will not be published.