আদিকাল থেকেই রূপচর্চার অনেক গুরুত্বপূর্ণ আর অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি উপাদান হলো দুধ। অনেক আগে থেকেই দুধ রূপচর্চায় ব্যাবহার করা হয় কারণ এটি সহজলভ্য আর এক উপকরনেই অনেক উপকারিতা পাওয়া যায় বলে।
আমিও তাই এর থেকে ব্যাতিক্রম না। ছোটবেলা থেকেই মা-খালাদের পরামর্শে স্কিন কেয়ারে ব্যাবহার করে আসছি দুধ। বিভিন্ন ফেইসপ্যাকে বেশিরভাগই আমি দুধ ব্যাবহার করি। আবার অনেক সময় একদম কাঁচা দুধে তুলা ভিজিয়ে তা ন্যাচারাল এক্সফোলিয়েটর হিসেবে ব্যাবহার করি। আর দুধ ব্যবহার কখনোই আমাকে নিরাশ করেনি। বরং আমার এক্সপেকটেশানের চেয়ে অনেক ভালো ফলাফল দেয় সবসময়ই। এই যেমন সানট্যান রিমুভ করার জন্য যখন ফেইসপ্যাকে দুধ ব্যাবহার করি তখন তা ট্যান তো রিমুভ করেই সাথে দেয় ইন্সট্যান্ট উজ্জ্বলতা আর স্কিনের ময়েশ্চার লক করে দীর্ঘ সময়ের জন্য। আবার বাইরে থেকে এসে প্রায় দিনই দেখা যায় আমি শুধু কাঁচা দুধ অ্যাপ্লাই করি। কারণ এটি স্কিনকে হাইড্রেট করার পাশাপাশি করে ভেতর থেকে পরিস্কার। এখন প্রশ্ন জাগতে দুধ আবার কিভাবে এক্সফোলিয়েট করে,তাই না? পারে, কারণ দুধে রয়েছে ল্যাকটিক অ্যাসিড যা স্কিনের ডেড সেলস রিমুভ করে নতুন স্কিন সেলসকে করে আরো উজ্জ্বল আর স্কিনে ইলাস্টিসিটি বাড়ায়। দুধ স্কিন কেয়ারে ব্যাবহার করি বলে আমার এক্সট্রা ভাবে এন্টি-এজিং প্রডাক্টসও ব্যাবহার করা লাগেনা। কারণ দুধ স্কিনের ফাইন লাইনস বা রিঙ্কেলস যেমন দূর করে তেমনি স্কিনে ফাইন লাইনস বা রিঙ্কেলস পড়তেও দেয় না সহজে। তাই বলা যায়, দুধ ন্যাচারালি এন্টি-এজিং এও সাহায্য করে। আমি যে শুধুমাত্র বাসায় থাকা দুধই স্কিন কেয়ারে ব্যাবহার করি তা কিন্তু না। মিল্ক এক্সট্র্যাক্ট আছে বা মিল্কের তৈরি এইরকম যেকোনো স্কিন কেয়ার প্রডাক্টই আমার পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে। তাই কোনো নতুন স্কিন কেয়ার প্রডাক্টে মিল্ক আছে দেখলেই আমি তা একবার হলেও ট্রাই করি। কিছুদিন আগে শপিং করতে গিয়ে হঠাৎ চোখ পড়লো আর্থ বিউটি এন্ড ইউ ব্র্যান্ডের ব্রাইটেনিং মিল্ক ফেসওয়াশের দিকে। ব্যস, যেমন স্বভাব তেমন কাজ, মিল্ক ফেসওয়াশ দেখে সাথে সাথেই নিয়ে নিলাম একটা।
গত ১০/১২দিন ধরে রেগুলার ফেসওয়াশটি ব্যাবহার করছি। যেহেতু নতুন প্রডাক্ট আর অনেকদিন কোনো প্রডাক্টের রিভিউ শেয়ার করা হয়না তাই ভাবলাম আজকে আপনাদের সাথে আর্থ বিউটি এন্ড ইউ ব্র্যান্ডের ব্রাইটেনিং মিল্ক ফেসওয়াশের একটা ডিটেইলড রিভিউ শেয়ার করি।
প্যাকেজিং –
দাম অনুযায়ী আর আমাদের দেশীয় একটা ব্র্যান্ড হিসেবে ফেসওয়াশটির প্যাকেজিং আমার খুবই ভালো মনে হয়েছে। প্রিমিয়াম কোয়ালিটির টিউবে থাকে ফেসওয়াশটি। জেন্টাল ফর্মুলা আর প্যারাবেন,মিনারেল অয়েলস আর সিলিকন ফ্রি হওয়ার কথা টিউবের ফ্রন্টেই লেখা আছে। ফেসওয়াশটি ৯৮.৪% প্রকৃতি থেকে পাওয়া উপকরণ থেকে তৈরি তাও লেখা আছে টিউবটির একদম উপরেই। টিউবটির পেছনে লেখা আছে এর যতো উপকারিতা আর ব্যাবহারবিধি নিয়ে। ১০০ মি.লি. এর ফেসওয়াশ টিউবটি হালকা নীল আর সাদা রঙয়ের কম্বিনেশনে তৈরি। যেহেতু মিল্ক ফেসওয়াশ তাই তারা একদম মিল্কের থিম টাই কালার কম্বিনেশনে রেখেছে যেটা প্রডাক্টের প্যাকেজিং-কে রিজেনেবল প্রাইসের মধ্যে একটা প্রিমিয়াম লুক দেয়। ফেসওয়াশটি গায়ে লেখা আছে যে এটি খসখসে, ড্রাই এবং ফ্লেকি স্কিনের জন্য বিশেষ উপকারি।
কি কি উপকার পেলাম? –
আগেই যেহেতু একদম বিস্তারিত বলেছি যে স্কিন কেয়ারে আমি মিল্ক ব্যাবহার করতে কতটা পছন্দ করি তাই আমি বেশ ভালো মতোই বুঝতে পারি একটা মিল্ক ফর্মুলায় তৈরি প্রডাক্ট স্কিনে কতোটা কাজ করছে। এই ফেসওয়াশটি ব্যাবহার করেও এর থেকে পাওয়া বেনিফিটগুলো তাই খুব ভালো ভাবেই বুঝেছি। কিন্তু আমি কি কি উপকার পেলাম তা বলার আগে চলুন জেনে নেই ফেসওয়াশটি কি কি বেনিফিটস ক্লেইম করে –
- ব্রাইটেনিং
- pH ব্যালেন্স
- ডেড সেলস রিমুভ
- অ্যান্টি-এজিং
- ময়েশ্চারাইজিং।
এবার বলি আমি যা যা উপকার পেলাম –
- আমার প্রায় রোজই বাইরে যাওয়া পড়ে। তাই স্কিন অনেক কারণেই অনেক সময় অনুজ্জ্বল দেখায়। আমি বাইরে থেকে এসে যখন এই ফেসওয়াশটা দিয়ে মুখ ধুই তখন বেশ ভালো ক্লিন ফিল হয় স্কিন আর ইন্সট্যান্টলি ব্রাইটও লাগে। ১০/১২ দিন টানা ব্যাবহার করায় আমার স্কিন আসলেও আগের চেয়ে ব্রাইট আর গ্লোয়িং লাগে মুখ ধোয়ার পর।
- আমার স্কিন বেশ ড্রাই। ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধোয়ার পর সবসময়ই স্কিন অনেক টানে। ফেসওয়াশ যদি মুখের স্কিনের ন্যাচারাল অয়েল রিমুভ করে ফেলে তাহলে স্কিনের pH ইমব্যালেন্সড হয়ে এই অবস্থা হয়ে পড়ে। কিন্তু এই ফেসওয়াশটি দিয়ে মুখ ধোয়ার পর আমার স্কিন একদমই অতিরিক্ত ড্রাই ফিল হয়নি বা টানেওনি তেমন। এটার জন্য আমি এই ফেসওয়াশটাকে ডাবল প্লাস পয়েন্ট দিবো।
- ফেসওয়াশটিতে রয়েছে আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড(AHA) যা স্কিনের ডেড সেলস রিমুভ করে জেন্টাল ভাবে। ফেসওয়াশটি ব্যাবহার শুরুর পর আমার ফ্লেকি স্কিনের প্রবলেম ঠিক হয়েছে। তার মানে ফেসওয়াশটি সত্যিই ডেড সেলস রিমুভ করে আর নতুন স্কিনকে রাখে হেলদি।
- এতে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড বা আলফা হাইড্রক্সি অ্যাসিড(AHA) অ্যান্টি-এজিং এর জন্য অনেক উপকারি। আমার স্কিনে এজিং রিলেটেড তেমন কোনো প্রবলেম নেই কিন্তু চোখের নিচে হালকা ফাইন লাইনস দেখা দিচ্ছিলো। এই ফেসওয়াশ ব্যাবহারের পর থেকে তা অনেকটাই ইনভিসিবল লাগে।
- ফেসওয়াশটি ব্যাবহার করে স্কিন না টানলেও খুব বেশি সফট বা ময়েশ্চারডও লাগেনি আমার। যতটুকু স্কিন সফট লাগে তা আমার কাছে ইনাফ মনে হয়নি। কিন্তু আবার এই প্রাইসের একটা ফেসওয়াশ থেকে এর চেয়ে অনেক বেশি আশাও আসলে করা যায় না। তাই যারা কম প্রাইসের মধ্যে একটা ময়েশ্চারাইজিং ফেসওয়াশ চান তারা এটা কিনে নিতে পারেন চোখ বন্ধ করে।
মোটকথা ফেসওয়াশটি থেকে আমি যতটুকু আশা করেছিলাম এটি আমাকে তার চেয়ে বেশ ভালোই রেজাল্টস দিয়েছে। এটি ব্রাইটেনিং এর পাশাপাশি আমাকে দিয়েছে ফ্রেশ লুকিং স্কিন।
ব্যাবহার বিধি – পি-সাইজড ফেসওয়াশ হাতে নিয়ে ভেজা স্কিনে অ্যাপ্লাই করে কিছুক্ষণ সার্কুলার মোশনে মাসাজ করে নরমাল বা কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
ফেসওয়াশটি কি আমি আবার কিনবো? – যেহেতু ফেসওয়াশটি আমার আশা অনুযায়ি আমার ভালো লেগেছে এবং এটি এর ক্লেইম অনুযায়ি ফলাফলও দিয়েছে তাই অবশ্যই আমি রেগুলার ব্যাবহারের জন্য আমি এটি আবার পারচেজ করবো।
আমার খুব ভালো লাগে যখন দেখি আমাদের নিজেদের দেশের ব্র্যান্ডগুলো এতো ভালো মানের স্কিন কেয়ার প্রডাক্টস বানাচ্ছে। আর্থ বিউটি এন্ড ইউ নতুন একটি ব্র্যান্ড এবং এর প্রোডাক্টের মান খুবই ভালো তা আমি নিশ্চিত। আপনারাও ব্যাবহার করে দেখতে পারেন এই ব্র্যান্ডের প্রোডাক্টগুলো। স্পেশালি যাদের ড্রাই স্কিন তারা আর্থ বিউটি এন্ড ইউ এর মিল্ক ফেসওয়াশটি অবশ্যই ব্যবহার করবেন।
এই ব্র্যান্ডটি যেহেতু আমার ভালো লেগেছে তাই সামনে চেষ্টা করবো এর আরো কিছু প্রোডাক্টের রিভিউ করতে আর আপনাদের নানান সমস্যার সমাধান অনুযায়ী প্রডাক্ট সাজেস্ট করতে।
লিখেছেন –
রাবেয়া চৌধুরী পিয়া