Skin Care

বাজেট ফ্রেন্ডলি ত্বকের যত্ন ঘরে বসেই

 

অনেকেই ভাবেন স্কিনকেয়ার মানেই এক্সপেন্সিভ প্রোডাক্ট। কোরিয়ান গ্লাস স্কিন কন্সেপ্টটার সাথে পরিচয় হওয়ার পর থেকেই আমরা ভেবে নিই এক গাদা প্রডাক্ট কিনে ব্যাবহার করলেই বোধহয়  সুন্দর ত্বক পাওয়া যাবে। কিন্তু ব্যপারটা কিন্তু মোটেও এমন না! ঘরে আছে এমন কিছু উপকরণ দিয়ে কিন্তু সহজেই আমরা ত্বক ও চুলের পরিচর্যা করতে পারি। 

 

হোমমেড ক্লিনজার

২ টেবিল চামচ দুধের সাথে অল্প একটু মধু মিশিয়ে নিন। হয়ে গেলো আপনার বাসায় তৈরি ক্লিনজার। স্কিন এ সারকুলার মোশন এ আস্তে আস্তে মাসাজ করুন।কাঁচা দুধ এই ক্ষেত্রে বেস্ট কাজ করে। কিন্তু ঘরে পাউডার মিল্ক থাকলে সেটা দিয়েও বানাতে পারেন। এতে স্কিন গভীর থেকে ক্লিন হবে।  দুধ স্কিন কে উজ্জ্বল করবে, আর মধু মইশ্চারাইস করবে। স্কিন থাকবে ফ্রেশ অ্যান্ড ব্রাইট। 

হোমমেড টোনার

 ১টি স্প্রে বোতল-এ পানি নিয়ে তাতে ১ চা চামচ  অ্যাপেল সিডার ভিনেগার নিয়ে নিন। তৈরী হয়ে গেলো আপনার টোনার! যাদের স্কিন অতিরিক্ত অয়েলি হয়ে যায় বা পিম্পেল এর সমস্যা আছে, তাদের জন্য এই টোনার মিস্ট পারফেক্ট অ্যাপেল সিডার ভিনেগার স্কিন এর পি এইচ ঠিক রাখে সেই সাথে স্কিন কে রাখে স্মুথ।

হোমমেড স্ক্রাব

গ্রাউন্ড অ্যামন্ড স্ক্রাব

স্ক্রাব ত্বকের যত্নের একটি অপরিহার্য অংশ। এটি পোরসগুলোকে ক্লিন করতে সাহায্য করে এবং হোয়াইট হেডস, ব্ল্যাকহেডস এবং ব্রেকআউটের ঝুঁকি কমায়। গ্রাউন্ড আলমণ্ডের পেস্ট এই ধাপের জন্য একটি উপকারি উপাদান। এটি আলতো করে ত্বককে এক্সফোলিয়েট করে। পর্যাপ্ত পরিমাণ অ্যামন্ড বাদাম নিয়ে গুড়ো করে নিন। এতে নারকেলের পানি  দিয়ে একটি থিক পেস্ট তৈরি করুন। মুখে লাগান, প্রায় ২ মিনিটের জন্য আলতো করে এক্সফোলিয়েট করি। সাধারণ জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন এবং পরে ময়েশ্চারাইজার লাগান।

শ্যুগার স্ক্রাব

আমাদের কনুই বা হাটুতে অনেক সময় কালো দাগ দেখা যায়, তাই না? একটা বাটিতে ১ টেবিল চামচ চিনি ১ চা চামচ লেবুর রস, ২ টেবিল চামচ মধু আর ১ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল নিয়ে নিই। ভালো করে মিক্স করে তৈরী করে ফেলি আমাদের হোম মেড স্ক্রাব। চিনি  ডেড সেলস এক্সফোলিয়েট  করতে সাহায্য করে, লেবুর রস ডার্ক স্পট দূর করে। মধু স্কিন কে স্মুথ করে। 

অলিভ অয়েল স্কিন কে মইশ্চারাইজ করে। সপ্তাহে ২ বার এই স্ক্রাব ব্যবহার করলে স্কিন থাকবে হেলদি অ্যান্ড ব্লেমিশ ফ্রী। 

গ্রাউন্ড রাইস স্ক্রাব

চালের গুড়ো হলো  আরেকটি উপাদান, যা স্ক্রাবের কাজ খুব ভালোভাবে করতে পারে। একটি ভাল এক্সফোলিয়েটারের পাশাপাশি এটি একটি ভাল ডিপিগমেন্টিং এজেন্টও। চাল দিয়ে স্ক্রাবিং আপনার ত্বককে ইভেন-টোনড এবং মসৃণ করতে সাহায্য করবে।

স্ক্রাব প্রস্তুত করতে, চালের গুড়োতে প্রয়োজনীয় পরিমাণে মধু বা অলিভ অয়েল যোগ করুন।

প্রায় ২ মিনিটের জন্য ত্বককে এক্সফোলিয়েট করুন এবং পরে স্বাভাবিক জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

দেখলেন তো  ন্যাচারাল ইনগ্রিড্রিয়েন্ট দিয়ে খুব সহজেই করা যায় বাজেট ফ্রেন্ডলি স্কিন স্ক্রাব!

হোমমেড ফেসপ্যাক

(১) বেসন আর হলুদের ফেসপ্যাক

বেসন এবং হলুদের প্যাক আপনার নিস্তেজ ত্বকের জন্য একটি সম্পূর্ণ সমাধান। এটি একটি ভাল এক্সফোলিয়েটর, একটি ডিপিগমেন্টিং এজেন্ট এবং ব্রেকআউট প্রতিরোধে সহায়ক। এগুলোর পাশাপাশি, বেসনও ত্বকের অতিরিক্ত ঘাম পরিষ্কার করতে পরিচিত। অন্যদিকে, হলুদ একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ত্বককে ফ্রি র‍্যাডিকেল জনিত ত্বকের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। এই ফেস ওয়াশ প্রস্তুত করতে আমাদের প্রয়োজন ২ টেবিল চামচ বেসন এবং ১/২ চা চামচ হলুদ। উপাদানগুলো একসাথে  পেস্ট তৈরি করতে গোলাপ জল বা পানি মিশিয়ে ফেলুন। মুখে অ্যাপ্লাই করুন, ম্যাসাজ করুন এবং প্রায় এক মিনিটের জন্য এক্সফোলিয়েট করুন। কিছুক্ষণ রেখে স্বাভাবিক পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। 

(২) মুলতানি মাটি আর গোলাপ জল ফেসপ্যাক

আপনি যদি বেসনের ভক্ত না হন তবে আপনি মুলতানি মাটিও ব্যবহার করতে পারেন। গোলাপ জলে মুলতানি মাটি মিশ্রিত করে একটি প্যাক প্রস্তুত করে ফেলুন। ভালো করে মুখে অ্যাপ্লাই করে অপেক্ষা করতে হবে হাল্কা শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত।  তারপর আলতো করে ঘষে ত্বকের ডেড সেলস পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। সপ্তাহে ২ দিন করে ব্যবহার করুন। মুলতানি মাটি একটি অত্যন্ত কার্যকরী এক্সফোলিয়েটর এবং ক্লগ পোরস সহ ত্বককে গভীরভাবে পরিষ্কার করে।

(৩) মধু ও অ্যালোভেরা ফেসপ্যাক

ত্বকের ডালনেস কমাতে এবং গভীরভাবে হাইড্রেট করতে অ্যালোভেরা আর মধুর বিকল্প হয় না। সাথে একটু লেবুর রস নিয়ে নিলে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে হেল্প করে দারুণভাবে! 

১ টেবিল চামচ খাঁটি মধু, ১/২ চামচ লেবুর রস এবং ২-৩ টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল নিন। সব কিছু মিশিয়ে প্যাকটি মুখে লাগান। প্রায় ১৫ মিনিটের জন্য এটি রেখে দিন। ভেজা হাতে একটু ম্যাসাজ করে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এই ফেসপ্যাকটি সপ্তাহে ১-২ বার ব্যবহার করুন।

(৪) ভিনেগার ফেসিয়াল মাস্ক    

স্কিন টোনার হিসাবে ভিনেগার ব্যবহার করা হয়, হেলেন অফ ট্রয়ের সময় থেকে শুরু করে এবং এটি আজও কার্যকর। আমরা আমাদের মুখ ধোয়ার পরে, আমাদের ত্বক পরিষ্কার এবং আঁটসাঁট করার জন্য ২ কাপ জলের সাথে ১ টেবিল চামচ আপেল সিডার ভিনেগার মিশ্রিত করি। এছাড়াও আমরা ১/৪ কাপ সিডার ভিনেগার ১/৪ কাপ জলের সাথে মিশিয়ে ঘরে তৈরি ফেস মাস্ক তৈরি করতে পারি। আলতো করে আমাদের মুখে করি অ্যাপ্লাই এবং এটিকে শুকাতে দেই। ১০ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলি। 

ময়েশ্চারাইজার হিসেবে শিয়া বাটার-

লোশনের ক্ষেত্রে আমি হোমমেড প্রেফার করি না। কারণ আমার কিছুটা লাইটওয়েট সুগন্ধী ময়েশ্চারাইজার পছন্দ। আর শিয়া বাটার, কোকোয়া বাটারের রিচ স্মেলযুক্ত বডি লোশন যদি পাওয়া যায় কম বাজেটের মধ্যে তাহলে তো কথাই নেই! এক মাস হলো আমি ব্যবহার করছি আর্থ বিউটি অ্যাণ্ড ইউ এর ময়েশ্চারাইজিং বডি মিল্ক। এর প্রধান উপাদান হলো শিয়া বাটার। এটি একটি ইমোলিয়েন্ট হিসেবে কাজ করে যা ত্বকের হারানো আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে।

 

ক্যাস্টর অয়েল-

ক্যাস্টর অয়েল শুধু চুলের জন্য নয়। এটি স্বাস্থ্যকর ত্বক পেতেও ব্যবহার করা যেতে পারে। এই তেল হিউমেক্ট্যান্টের মতো কাজ করে যা ত্বকের হারানো আর্দ্রতা ধরে রাখে। এ ছাড়া ক্যাস্টর অয়েলের ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের ময়েশ্চারাইজেশনে সাহায্য করে।

 

পর্যাপ্ত পরিমাণে ক্যাস্টর অয়েল নিন। ভালোভাবে ম্যাসাজ করে রেখে দিন। তেল সম্পূর্ণরূপে ত্বকে মিশে গেলে সানস্ক্রিন লাগাতে ভুলবেন না।

খেয়াল রাখতে হবে ক্যাস্টর অয়েল ত্বককে অয়েলি বা একনে-প্রোন করে দিচ্ছে কিনা। অন্যথায়, আপনি ক্যাস্টর অয়েল ব্যবহার বাদ দিয়ে শিয়া বাটার, অ্যালোভেরা বা হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন।

 

প্রতিদিনের ত্বকের যত্নের রুটিন কী হওয়া উচিত?

 

দৈনিক ত্বকের যত্ন উভয় সময়ে করা উচিত।সকাল এবং সন্ধ্যা।

 

সকালে ত্বকের যত্ন মুখ পরিষ্কার করে শুরু করা উচিত, তারপরে টোনার এবং সিরাম ব্যবহার করুন (ঐচ্ছিক), ময়েশ্চারাইজার লাগান এবং একটি ভালো সানস্ক্রিন দিয়ে রুটিন শেষ করুন।

 

সন্ধ্যায় ত্বকের যত্নের রুটিনটি মুখ পরিষ্কার করা, মেকআপ মুছে ফেলার সাথে শুরু করা উচিত এবং তারপরে আপনি আপনার প্রয়োজন অনুসারে যে কোনও ধরণের সিরাম বা ময়েশ্চারাইজার (উদাহরণস্বরূপ হাইড্রেটিং, অ্যান্টি-এজিং) ব্যাবহার করতে পারেন।

 

 কিভাবে প্রতিদিন আমার ত্বকের যত্ন নিতে পারি?

ত্বককে সুস্থ রাখতে, প্রতিদিন একটি সঠিক ত্বকের যত্নের রুটিন অনুসরণ করুন, স্বাস্থ্যকর খাবার খান, সবুজ শাকসবজি এবং ফল খান, জাঙ্ক ফুড এড়িয়ে চলুন, প্রতিদিন কিছু ব্যায়াম করুন এবং প্রতিদিন কমপক্ষে ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করুন। 

 

আর ঘরোয়া উপায়ে এভাবে আমরা বিভিন্ন ধরনের উপকরণ মিশিয়ে স্বল্প খরচে রুপচর্চা করতে পারি। আর পেতে পারি সুন্দর ত্বক। কিন্ত এই ভেজাল এর যুগে ভাল কোনটি আর খারাপ কোনটি এটি চেনা খুবই কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তাই আমি বর্তমানে যে ব্র্যান্ডটি ব্যবহার করছি তা হল আর এস অলিভ অয়েল অথবা ক্ল্যারিস  অলিভ অয়েল,ক্ল্যারিস হানি, ক্ল্যারিস ক্যাস্টার ওয়েল, আর্থ বিউটি অ্যান্ড ইউ এর  অ্যালোভেরা ফেস ওয়াশ। 

  

লিখেছেন –
নাফিসা নুসরাত নূর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *