Food

এক্সট্রা ভার্জিন নাকি পমেস, খাবারের জন্য কোন অলিভ অয়েল ভালো? 

আমরা সবাই মানুষ হিসেবে সবাই কিছু না কিছু নিয়ে খুব বেশি সচেতন। যেমন কেউ হয়তো লাইফস্টাইল নিয়ে বেশি সচেতন, কেউ হয়তো স্কিন কেয়ার নিয়ে বেশি সচেতন আবার কেউ কেউ স্বাস্থ্য নিয়ে সবচেয়ে বেশি সচেতন। আর স্বাস্থ্য নিয়ে যারা সবসময় সচেতন আমি বলবো তারাই সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিমান। কারণ আপনার স্বাস্থ্য যখন পারফেক্ট থাকে তখন বডির অন্যান্য জিনিস এমনিতেই ঠিক থাকে। এর জন্যই কিন্তু সুস্বাস্থ্যকে সকল সুখের মূল বলা হয়। আর সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে আমাদের সবার আগে দরকার একটা ব্যালেন্সড ফুড হ্যাবিট। এই ফুড হ্যাবিট বা দৈনিক খাদ্যাভ্যাসকে স্বাস্থ্যসম্মত করতে ডায়েটেশিয়ানরা সবার আগে আমাদের পরামর্শ তেল জাতীয় খাবার ভুলে যেতে বা পরিহার করতে। কিন্তু আমরা বাঙালি আর আমরা কিন্তু তেল ছাড়া খাবারের কথা ভাবতেও পারিনা তাই না? ঠিক তাই, আর এর জন্যই তেল হিসেবে আমরা যদি অলিভ অয়েল বেছে নেই তাহলে কিন্তু স্বাস্থ্যের কোনো ঝুকিই থাকে না। এখন বাজারে এই অলিভে অয়েলের নানান ভ্যারিয়েশন রয়েছে। যেমন – এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল, পমেস অলিভ অয়েল আরো কতো কি। 

এগুলোর একেক ভ্যারিয়েশন কিন্তু একেক ধরণের খাবারের জন্য পারফেক্ট। সবগুলোই খাওয়া গেলেও সবকিছুর মতো এগুলোরও বিশেষত্ব রয়েছে। তো চলুন আমরা আজকে জেনে নেই যে কোন অলিভ অয়েলের কোন গুন রয়েছে, কোন অলিভ অয়েল কিভাবে খাওয়ার জন্য বেস্ট আর শুধু খাওয়া ছাড়াও আমরা অন্য কোনো কাজে এই অলিভ অয়েলগুলো ব্যাবহার করা যাবে নাকি না। 

 

এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল –  অলিভ অয়েল তৈরির জন্য অলিভ সংগ্রহ করার  ২৪ থেকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে তা থেকে তৈরি করা হয় এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল। আর এই অলিভ অয়েল তৈরিতে কোনো কেমিকাল ব্যাবহার করা হয় না। কারণ এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলের বিশেষত্বই হলো যে এটি সরাসরি অলিভের নির্যাশে পাওয়া তেল। তাই এর স্বাদও অন্যান্য অলিভ অয়েলের তুলনায় অনেক রিচ আর টেস্টি হয়ে থাকে। 

এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলে থাকে হার্টের জন্য উপকারী ফ্যাটস, লো কোলেস্টেরল সম্পন্ন হওয়ায় সবার জন্যই খুব উপকারী।  আবার এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলে থাকা অ্যান্টি-অক্সিডেন্টস অ্যান্টি-এজিং এর সহায়ক হিসেবে কাজ করে। 

পুরোপুরিভাবে আনরিফাইন্ড থাকে বলে এর স্বাদ অন্যান্য অলিভ অয়েলের মতো তিতা হয় না। বরং এতে খুব সুন্দর স্মেলের পাশাপাশি থাকে ফ্রূটি ফ্লেভার। তাই এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলে রান্না করা খাবারের স্বাদ হয় অনেক মজা। এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল দিয়ে ৱান্না কৱা গেলেও গ্ৰিল কৱা, প্যানফ্ৰাই কৱা বা সালাদেৱ ড্ৰেসিং হিসেবেই বেশি ব্যবহাৱ কৱা হয়ে থাকে। বিদেশি যেকোনো রেসিপি এই অয়েলে রান্না করলে স্বাদ হয় অতুলনীয়। 

আমরা যারা আমাদের অতিরিক্ত ওজন নিয়ে প্রচণ্ড দুশ্চিন্তাগ্রস্থ, তাদের জন্য এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েলের চেয়ে ভালো সলিউশন চিন্তাই করা যায় না! অলিভ অয়েলের ভিটামিন-ই, ফ্ল্যাভেন-৩-ওলস, অ্যানথোসায়ানিন, ওজন কমাতে পারে।

 

পমেস অলিভ অয়েল –  রান্নার কাজে ব্যাবহার করা অলিভ অয়েল গুলোর মধ্যে আরেকটি জনপ্রিয় নাম হলো পমেস অলিভ অয়েল। এক্সট্রা ভার্জিন অয়েল তৈরির সময় অলিভ থেকে তেল বের করে নেয়ার পর অলিভের যেই অংশ বাকি থেকে যায় তা থেকে তৈরি হয় পমেস অয়েল।  

 

এর মনোস্যাচুরেশনের মাত্রা ৮০% হওয়ায় এটি দেহের কোলেস্টেরল এর মাত্রা কমায়। এতে থাকা প্রত্যেকটি উপাদানই স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অপরিহার্য। পমেস অয়েলের গন্ধ একদমই নিরপেক্ষ হয় এবং এই তেলে রান্নার কারনে খাবারের স্বাদে কোনো পরিবর্তন হয় না। তাই এই তেল অনেকেরই খুব প্রিয়। 

উচ্চ তাপমাত্রায় এই তেলের গুনাবলি নস্ট হয় না। তাই ডিপ ফ্রাইংয়ের জন্য এই তেল বিশেষভাবে ব্যাবহার করে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষেরা। এই তেলে ডিপ ফ্রাই করা খাবার হার্ট বা লিভারের ক্ষতি করেনা। গ্যাস্ট্রিকের সৃষ্টি করেনা। বাঙালি যেকোনো রান্না যেমন- বিরিয়ানি, পোলাও, সিঙ্গারা, সমুচা, মাছ, মাংস ইত্যাদি রান্নার জন্য পমেস অয়েল একদম পারফেক্ট। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে অনেক দিন ধরেই রান্নার কাজে ক্ল্যারিসের পমেস অলিভ অয়েল ব্যাবহার করে আসছি যা আমাকে তুলনামূলক ভাবে হেলদি রাখছে। 

 

রান্না ছাড়াও এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল এবং পমেস অলিভ অয়েলের গুনাবলি-  উপরের লেখাগুলো পড়ে হয়তো এতক্ষণে এক্সট্রা ভার্জিন এবং পমেস এই দুই ধরনের অলিভ অয়েলেরই অনেক খুটিনাটি জেনে গেলেন। কিন্তু শুধুমাত্র রান্নার কাজ ছাড়াও এই অলিভে অয়েল গুলোর আরো বিশেষ কিছু ব্যাবহার রয়েছে। যেমন- এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল রান্নার জন্য হলেও আপনি এর মাধ্যমে আপনার খুশকির সমস্যা দূর করতে পারেন। একটুখানি লেবুর রসের সাথে এক্সট্রা ভার্জিন অয়েল চুলে দিলে খুশকি দূর করা সহজ হয়।  আবার পমেস অয়েল কিন্তু আপনি স্কিন কেয়ারেও ব্যাবহার করতে পারবেন। গ্লিসারিনের সাথে পমেস অয়েল মিশিয়ে আপনি শীতকালে হাত-পায়ের যত্নে ব্যাবহার করতে পারবেন। নারকেল তেলের সাথে পমেস অয়েল মিশিয়ে চুলে দিলে চুল হবে মজবুত এবং ঝলমলে। 

 

তাহলে কোনটা নিবো? এক্সট্রা ভার্জিন নাকি পমেস? – 

 

দুই ধরণের অলিভ অয়েলই তো অনেক উপকারি তাই বাজারে গিয়ে কোনটা রেখে কোনটা নিবেন এই ব্যাপারে কনফিউজড হয়ে যাওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। সত্যি বলতে এই দুই ধরনের অলিভ অয়েলই পারলে বাসায় স্টক করে রাখা ভালো। কারণ যা আপনাকে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য নিশ্চয়তা দেয় তা বাসায় সবসময় রাখলে ক্ষতি কি? কিন্তু অনেকে যেকোনো একটা কেনার সাজেশন চায়, তাদের জন্য বলবো আপনার যদি স্ট্রং স্মেল সহ্য হয় বা স্ট্রং স্মেলের জন্য ওই তেলে রান্না করতে কোনো সমস্যা না থাকে তারা এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল টা নিতে পারেন। আবার হয়তো আপনি অতো বেশি ভাজা-ভুজি খাবার খান না, আপনার খাবার হয় কম মশলায়, হালকা ভাজা বা শুধু সতে করা তাহলে আপনার জন্য আদর্শ চয়েজ হবে এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল। কিন্তু আপনি রিচ ফুড হয়তো বেশি খেয়ে থাকেন বা বিকালের নাস্তায় একটু ডিপ ফ্রাইড আইটেমগুলোই বেশি পছন্দ করেন তাহলে আপনার আদর্শ চয়েজ হবে পমেস অয়েল। 

এক্সট্রা ভার্জিন বা পমেস, অলিভ অয়েল যেটাই কিনুন না কেনো আমার সাজেশন থাকবে ক্ল্যারিস। কারণ গত ৫বছর যাবত এই ক্ল্যারিসের অলিভ অয়েল গুলো ব্যাবহার করে এর গুনগত মানের ১০০ ভাগ গ্যারান্টির কথা আমি বলতে পারি। আর এর প্যাকেজিং অনেক প্রিমিয়াম যা দেখেই এর প্রতি আপনার মনে আগ্রহ জাগবে কিনে একটু ব্যাবহার করে দেখার। মজার বিষয় হলো ক্ল্যারিস অলিভ অয়েলের অনেক গুলো সাইজ রয়েছে। যার ফলে আপনি আপনার সুবিধা ও চাহিদা মতো যেকোনো সাইজ কিনেই ট্রাই করে দেখতে পারবেন যে আপনার কোনটা ভালোলাগে।

 

পরিশেষে বলবো, নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে আপনার নিজেরই সবসময় সতর্ক থাকতে হবে। কারন রোগ একবার শরীরে বাসা বাধলে তা থেকে হাজার রকমের স্বাস্থ্যঝুঁকি বারতেই থাকে। তাই আজই সয়াবিন তেল বা বিভিন্ন আনহেলদি অয়েল ত্যাগ করে সুইচ করুন এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল বা পমেস অলিভ অয়েলে। আর যেকোনো অলিভ অয়েলের জন্যই বেস্ট ব্র্যান্ড হবে ক্ল্যারিস।

 

লিখেছেন –
রাবেয়া চৌধুরী পিয়া

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *