হেলদি এবং হাইড্রেটেড স্কিন আমাদের সবারই সবসময়ের চাওয়া। আমাদের স্কিন টা একটু গ্লো করবে, সবাই স্কিনের প্রশংসা করবে বা স্কিনের জন্য আমাকে লাগবে সবার চেয়ে সুন্দর – এই জিনিসগুলো আমরা কে না চাই বলুন তো? কিন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে ডেইলি লাইফের ব্যস্ততা কাটিয়ে আমাদের অনেকেরই একটা পারফেক্ট বা ব্যালেন্সড স্কিনকেয়ার রুটিন মেইনটেইন করা হয়ে উঠে না। বা পুরোদিনের ধকল শেষে স্কিনের পিছে আলাদাভাবে সময় দেয়ার এনার্জিটাই হয়তো অনেক সময় থাকেনা। কিন্তু আমরা কি জানি যে ডেইলি ১০ মিনিট সময়ের জন্য হলেও আমাদের স্কিন কে দেয়া উচিত? কারন ডেইলি যদি আমরা স্কিনের টুকটাক যত্ন না নেই তাহলে আস্তে আস্তে আমাদের স্কিন হয়ে ওঠে নিস্প্রান এবং লাবণ্যতা হারায়। এছাড়াও স্কিনের একনে, পিম্পল এবং প্রি-ম্যাচিওর এজিং এর মতো সমস্যা দেখা দেয়।
স্কিনে যেকনো সমস্যা দেখা দেয়ার পর আমরা পাগল হয়ে তার সমাধান খুজতে থাকি। কিন্তু আগে থেকেই একটু সময় যদি আমরা স্কিন কেয়ারে দেই তাহলে কিন্তু এই সমস্যা গুলো হওয়ার আশংকাই থাকে না। আর ডেইলি স্কিন কেয়ার কিন্তু খুব কঠিন কিছুও না। স্কিন টাইপ অনুযায়ী সঠিক কিছু প্রডাক্ট সিলেক্ট করে বা ঘরে থাকা বিভিন্ন উপকরন দিয়েই কিন্তু আমরা চটজলদি আমদের স্কিন কেয়ার করতে পারি। তবে চলুন আজকে জেনে নেই আমাদের হাতের কাছে থাকা বিভিন্ন উপকরন কিভাবে আমাদের স্কিন কেয়ার সহজ করে দিতে পারে –
১। ক্লিনজিং – আমাদের স্কিন প্রত্যেক দিনই বাইরের ধুলাবালি সহ্য করে। আবার প্রতিদিনের মেকআপও ভালো করে পরিস্কার না করলে তা স্কিনের জন্য অনেক বেশি ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়ায়। এছাড়া প্রতিদিন বাইরে যাওয়া হোক আর না হোক আমাদের উচিত দিনে দুইবার ভালো একটা ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধোয়া। কারণ ঘরে থাকলেও আমাদের স্কিন ময়লা হয় যা হয়তো আমরা বুঝতে পারিনা। অনেক ধরনের ক্লিনজারই বাজারে পাওয়া যায় কিন্তু ক্লিনজার সিলেক্ট করতে হবে স্কিনের ধরন অনুযায়ী। নিশ্চই এখন ভাবতে পারেন যে কোন ব্র্যান্ডের বা কোন ধরনের ক্লিনজার কিনবেন। ক্লিনজিং এর জন্য আপনি সহজেই বেছে নিতে পারেন ক্ল্যারিসের ফেসওয়াশগুলো। কারণ ক্ল্যারিসের প্রতিটি ফেসওয়াশই ডেইলি ক্লিনজার হিসেবে পারফেক্ট এবং স্কিনকে করে ভেতর থেকে পরিস্কার। যাদের অয়েলি স্কিন তারা বেছে নিতে পারেন ক্ল্যারিস লেমন ফেসওয়াশ। এছাড়াও আর্থ বিউটি অ্যান্ড ইউ ব্র্যান্ডের লেমন ফেসওয়াশটিও বেছে নিতে পারেন আপনার অয়েলি স্কিনের বন্ধু হিসেবে। আবার সেন্সিটিভ স্কিনের যত্নে সঙ্গী হতে পারে ক্ল্যারিস অথবা আর্থ বিউটি অ্যান্ড ইউ এর নিম ফেসওয়াশ। যারা আবার একটু ব্রাইটেনিং ইফেক্ট এর পাশাপাশি স্কিনটাকে একটু সফট করতে চান তাদের জন্য রয়েছে ক্ল্যারিস পাপায়া ফেসওয়াশ, ক্ল্যারিস মিল্ক ফেসওয়াশ, আর্থ বিউটি অ্যান্ড ইউ এর ভিটামিন সি পিউরিফাইং ফেসওয়াশ। এছাড়াও ফ্লোরমার এর 3 ইন 1 জেল ক্লিনজারটিও বেছে নিতে পারেন আপনার ডেইলি ক্লিনজার হিসেবে। ক্লিনজার ব্যবহারের এর আগে ভালো কোনো মাইসেলার ওয়াটার বা অয়েল ক্লিনজার ব্যবহার করে সহজেই আমরা বাসায়ই ডাবল ক্লিনজিং করে নিতে পারি যা রেগুলার করা খুবই জরুরী। তাই প্রতিদিন ক্লিনজার ব্যবহার করতে ভুলবেন না কিন্তু!
২। টোনিং – ক্লিনজিং এর পর টোনিং জিনিসটা বেশিরভাগ মানুষই স্কিপ করে যায়। কারন অনেকে ভেবেই নেয় যে টোনিং কোনো ইম্পরট্যান্ট স্টেপ না। এটা ভাবলে কিন্তু বোকামি করবেন। কারণ ডাবল ক্লিনজিং করার পর আমাদের পোরস গুলো খুলে যায়। পোরস খোলা থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই বাইরের ময়লা সেখানে প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু টোনার সেই ওপেন পোরস গুলোকে বন্ধ করতে সাহায্য করে। কিছু টোনার আপনার স্কিনকে খুব ভালভাবে ক্লিন করে একদম ভেতর পর্যন্ত দেয় পুষ্টি এবং স্কিনে দেয় একটি সুদিং ইফেক্ট। আর ঘরোয়া টোনার হিসাবে ব্যাবহার করুন রোজ-ওয়াটার অথবা অ্যালোভেরা জেল।
৩। স্ক্রাবিং – শুধু কি ক্লিনজিং বা ডাবল ক্লিনজিং করলেই স্কিন পরিস্কার হয়ে যায়? একদমই না। কারণ ক্লিনজিং শুধুমাত্র আমাদের স্কিনের উপরে জমে থাকা ময়লাগুলো পরিস্কার করে কিন্তু স্কিনের ডেড সেলস, ব্ল্যক এবং হোয়াইট হেডসগুলো স্কিনে থেকেই যায়। এর জন্য দরকার স্ক্রাবিং। রেগুলারলি স্কিন স্ক্রাব করলে স্কিন হয় বেবি সফট আর স্মুদ। কারন স্ক্রাব করার ফলে স্কিনের ডেড সেলস গুলো সহজেই রিমুভ হয় এবং স্কিন দেখায় গ্লোয়িং। এখনকার দিনে অনেক ধরনের স্ক্রাব পাওয়া গেলেও স্ক্রাবিং নিয়ে ভালোমতো ধারনা না থাকায় কোন স্ক্রাব টা কিনবো বা কিভাবে সঠিক নিয়মে স্ক্রাব করবো তা অনেকেই বুঝে উঠতে পারেনা। অনেকে আবার স্ক্রাবের জন্য আলাদা প্রোডাক্ট না কিনে ঘরে থাকা কিছু বেসিক উপাদান দিয়েই সেরে ফেলেন স্ক্রাবিং এর কাজটি। যেমন- চিনির সাথে মধু আর লেবুর রস মিশিয়ে সহজেই বানিয়ে ফেলতে পারেন একটি পারফেক্ট স্ক্রাব। আবার যাদের অনেক ড্রাই স্কিন তারা কফির সাথে অলিভ অয়েল বা আলমন্ড অয়েল মিশিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন একটি স্ক্রাব। আর এই স্ক্রাবগুলো তৈরিতে চোখ বন্ধ করে বেছে নিতে পারেন ক্ল্যারিস পিওর হানি বা ক্ল্যারিস অলিভ অয়েল। দেখলেন তো কতো সহজেই ঘরে থাকা উপাদানেই খুব অল্প সময়েই কিভাবে স্ক্রাব করা যায়!
৪। ফেসপ্যাক – ক্লিনজিং এবং স্ক্রাবিং এর পর আপনার স্কিন এখন যেকোনো ফেসপ্যাক ভালোভাবে অ্যাবসরব করতে প্রস্তুত। স্কিনের সান ড্যামেজ, ডালনেস, ফাংগাল একনের মতো স্কিনের হাজারো সমস্যা দূর করতে ফেসপ্যাকের জুড়ি নেই। ফেসপ্যাক আপনার স্কিনের পোরস গুলোকে ভিতর থেকে পরিস্কার করে আর ওপেন পোরস বন্ধ করতে সাহায্য করে। যারা দিন দিন স্কিন ডাল হয়ে যাওয়ার সমস্যায় ভুগছেন বা যাদের স্কিনে দিন দিন ফাইন লাইনস দেখা যাচ্ছে তাদের কিন্তু একটা ভালো ফেসপ্যাক ব্যবহার করা মাস্ট। স্কিনের পোরস ক্লিন করতে ক্লে মাস্ক বেস্ট। আর তার জন্য বেছে নিতে হাতের নাগালেই থাকা ফ্লোরমার ক্লে মাস্ক। এছাড়াও ঘরোয়া উপাদানেও বানিয়ে নিতে পারেন আপনার পারফেক্ট ফেসপ্যাকটি। বেসন, লেবুর রস এবং মধু মিশিয়ে তৈরি করে নিতে পারেন একটি পারফেক্ট ব্রাইটেনিং এবং ময়েশ্চারাইজিং ফেসওয়াশ। আবার চালের গুড়া, টমেটোর রস, টক দই আর মধু মিশিয়ে বানিয়ে নিতে পারেন ট্যান রিমুভিং এবং ব্রাইটেনিং ফেসপ্যাক। এই ফেসপ্যাকটি ব্যাক্তিগত ভাবে আমার সবচেয়ে পছন্দের। আর এই ফেসপ্যাকটি বানাতে আমি ব্যবহার করি ক্ল্যারিস হানি। কারন ক্ল্যারিস হানি দেয় ১০০% বিশুদ্ধ হানির গ্যারান্টি। বুঝতেই পারছেন ঘরে বসে স্কিন কেয়ারে সময় যেমন কম লাগে তেমনই খরচও কিন্তু অনেক কম। কারন ঘরে থাকা জিনিস দিয়েই আপনি পাচ্ছেন আপনার স্কিন প্রব্লেমস এর সমাধান।
৫। ময়েশ্চারাইজিং – বেসিক এবং ডেইলি স্কিন কেয়ারের একটি বাধ্যতামূলক স্টেপ হলো ময়েশ্চারাইজিং। স্কিন যদি ভালভাবে ময়েশ্চারাইজড না থাকে তাহলে সহজেই স্কিন প্রিম্যাচিওর এজিং এর শিকার হয়। স্কিন ড্রাই হোক আর অয়েলি ময়েশ্চারাইজার মাস্ট!মাস্ট!মাস্ট। আর আপনার ডেইলি ময়েশ্চারাইজার হিসেবে ব্যাবহার করুন ফ্লোরমার ময়েশ্চারাইজার। ফ্লোরমারে রয়েছে ড্রাই, অয়েলি এবং সেন্সিটিভ স্কিনের জন্য আলাদা আলাদা ময়েশ্চারাইজার। এছাড়াও কোকোনাট অয়েল, আলমন্ড অয়েল এবং অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে নিজেই বানিয়ে ফেলতে পারেন আপনার হোমমেড ময়েশ্চারাইজারটি। আর কোন আলমন্ড অয়েল নিবেন মাথায় প্রশ্ন ঘুরলে উত্তর হচ্ছে ক্ল্যারিস আলমন্ড অয়েল।
স্কিন কেয়ার কিন্তু বেশ ইন্টারেস্টিং এবং জরুরি একটি ব্যপার। ইন্টারেস্টিং বললাম কারণ আমরা যখন আমাদের স্কিনের ভিতরের প্রয়োজনগুলো জানতে পারবো বা আমাদের স্কিন নিয়ে একটু ভেবে দেখবো তখন কিন্তু স্কিন কেয়ার আমরা নিজের ইন্টারেস্টেই শুরু করবো। উপরের ৫টি সহজ স্টেপ অনুযায়ী এখন স্কিন কেয়ার করুন ঘরে বসেই একদম কম খরচে।
ওহ! আর শুধু স্কিন কেয়ার করলেই স্কিন একদম গ্লোয়িং হেলদি হবে এটা ভেবে স্কিন কেয়ার করে গেলেই হবেনা। স্কিন কেয়ার তখনই পারফেক্ট ফলাফল দিবে যখন আপনার স্কিন হবে ভেতর থেকে হাইড্রেটেড। আর এর জন্য বেশি বেশি পানি পান করার পাশাপাশি মেইনটেইন করতে হবে হেলদি ডায়েট।
লিখেছেন –
রাবেয়া চৌধুরী পিয়া