আমাদের সবারই প্রিয় বা ভালো লাগার কাজ গুলোর মধ্যে একটি হলো মেকআপ করা। গ্রীষ্ম, বর্ষা বা শীত – সব ঋতুতেই আমরা কমবেশি মেকআপ করে থাকি। কিন্তু বছরঘুরে দেখা যায় শীতকালেই মেকআপ করা হয় সবচেয়ে বেশি। কারন শীতকালে সবসমইয়ই যেনো লেগে থাকে বিয়ের দাওয়াত বা অন্যান্য অনুষ্ঠান। আর যেকোনো দাওয়াতেই আমরা চাই নিজেদেরকে সবচেয়ে সুন্দর এবং আলাদা দেখাতে। আর এর জন্য কিভাবে মেকাপ করবো তা নিয়ে যেনো একটা চিন্তা সবসময়ই মাথায় ঘুরঘুর করে।
মেকাপ সুন্দর দেখাতে হলে সবার আগে যেটা প্রয়োজন তা হলো হেলদি স্কিন। কারন স্কিন যদি ভালো থাকে যেকোনো মেকওভারই দেখতে লাগে পারফেক্ট। এর জন্য স্কিন কেয়ার করতে হবে নিয়মিত আর কিভাবে সহজ উপায়ে স্কিন কেয়ার করবেন এর জন্য পড়ে নিতে পারেন আমাদের স্কিন কেয়ার নিয়ে লেখা ব্লগগুলো।
শীতকালে আমরা কেউই ম্যাট মেকওভারের চেয়ে একটু গ্লোয়ি বা ডিউয়ি। আর মেকাপ ডিউয়ি দেখাতে আমাদের ব্যাবহার করতে হবে স্কিন অনুযায়ী পারফেক্ট মেকাপ প্রডাক্ট। চলুন দেখে নেই কি কি মেকাপ প্রডাক্ট ব্যাবহার করে বা কোন স্কিনের জন্য কি প্রডাক্ট ব্যাবহার করলে আমরা আমাদের পারফেক্ট মেকাপ লুকটি পেতে পারি সহজেই।
মেকাপ স্মুদ এবং ডিউয়ি দেখাতে প্রথমেই আমাদের ফোকাস করতে হবে বেইসের উপর। কারণ বেইস যদি পারফেক্ট হয় তাহলে লুকটিও হবে পারফেক্ট।
প্রাইমার – মেকাপের ক্ষেত্রে আমরা প্রাইমার জিনিস টা প্রায়ই ইগ্নোর করি বা হয়তো কিনিই না। কিন্তু এই প্রাইমারই আপনাকে হেল্প করবে আপনার মেকাপের স্মুদ ফিনিশিং আনতে। আমাদের স্কিনের পোরসগুলো প্রাইমার ভালোমত সিল করে দেয়। যার ফলে মেকাপ করলে পোরস ভেসে থাকেনা বা স্কিন অয়েলি হয়ে মেকাপ উঠে যায় না। এছাড়াও প্রাইমার ব্যাবহার করলে ফাউন্ডেশন অক্সিডাইজ হয়ে কালো হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কম থাকে। প্রাইমার সিলেক্ট করতে হবে আপনার টাইপ অনুযায়ী।
অয়েলি স্কিন হলে আপনি নিবেন ম্যাটিফাইং প্রাইমার আর ড্রাই স্কিন হলে আপনার জন্য বেস্ট হবে ইলুমিনেটিং প্রাইমার। আর এই দুই ধরনের প্রাইমারই পেয়ে যাবেন ফ্লোরমারে। ফ্লোরমারের ইলুমিনেটিং প্রাইমারটি আমার খুব পছন্দের। এটি আমাকে দেয় পারফেক্ট বেইস সল্যুশন এবং হাইড্রেটেড, ব্যালেন্সড ময়েশ্চারড স্কিন।
স্ট্রোব ক্রিম – ডিউয়ি লুক পেতে খুবই জরুরি একটি স্টেপ হচ্ছে স্ট্রোব ক্রিম ব্যাবহার করা। এই স্ট্রোব ক্রিম নিয়ে অনেকেরই তেমন ধারণা নেই। কিন্তু অয়েলি স্কিন হোক বা ড্রাই স্কিন স্ট্রোব ক্রিমের ব্যাবহারে সবার বেইস এই একটি ডিউয়ি ভাব আসে কারন এটি মূলত একধরণের শিমার ক্রিম যা স্কিন কে ড্রাই-আউট না করে দেয় খুব সুন্দর একটি গ্লোয়িং ফিনিশিং। প্রাইমার অ্যাপ্লাই করার পর স্ট্রোব ক্রিম ব্যাবহার করতে হয় অথবা প্রাইমার ব্যাবহারের পর পরিমানমতো স্ট্রোব ক্রিম ফাউন্ডেশনের সাথে মিশিয়ে মুখে অ্যাপ্লাই করতে হয়। ফ্লোরমারে পাবেন আপনার বাজেটের মধ্যে বেস্ট প্রিমিয়াম ফিনিশ এর স্ট্রোবিং ক্রিম। মুখের যেই অংশগুলো আপনি একটু বেশি ব্রাইট বা ডিউয়ি দেখাতে চান ওইসব জায়গায় একটু বেশি পরিমানে স্ট্রোবিং ক্রিম ব্যাবহার করবেন। স্ট্রোবিং ক্রিম আপনার পারফেক্ট ডিউয়ি লুকটি আনতে গেইম চেঞ্জারের ভূমিকা পালন করে।
ফাউন্ডেশন – স্কিন ভালোমতো প্রিপেয়ার করার পর ফাউন্ডেশন আপনার স্কিনের ধরণ অনুযায়ী ফাউন্ডেশন অ্যাপ্লাই করতে হবে। ফাউন্ডেশনের অনেক ধরণ রয়েছে। যেমন- ফুল কভারেজ ফাউন্ডেশন, মিডিয়াম থেকে লাইট কভারেজের ফাউন্ডেশন, ম্যাট ফাউন্ডেশন, ডিউয়ি ফাউন্ডেশন বা ভেল্ভেট ফিনিশের ফাউন্ডেশন। ড্রাই স্কিনের জন্য আপনার নিতে হবে হাইড্রেটিং বা ডিউয়ি ফিনিশিংযুক্ত ফাউন্ডেশন। এর জন্য ব্যবহার করতে পারেন ফ্লোরমারের ফিউশন পাওয়ার ফাউন্ডেশন সিরামটি। আবার ফ্লোরমার ইনভিসিবল কভার এইচ.ডি ফাউন্ডেশন বা ফ্লোরমার পারফেক্ট কভারেজ ফাউন্ডেশনটি অয়েলি বা ড্রাই যেকোনো স্কিন টাইপেই ভালোভাবে মানিয়ে যাবে। এছাড়াও আপনার যদি এক্সট্রিমলি অয়েলি স্কিন হয়ে থাকে তাহলে ব্যাবহার করতে পারেন ফ্লোরমার ম্যাট টাচ ফাউন্ডেশনটি। কেনো ফ্লোরমার ফাউন্ডেশন নিবেন? কারণ ফ্লোরমারে আপনি পাবেন বিশাল শেইড রেঞ্জ এবং আপনার স্কিন টাইপ অনুযায়ী পারফেক্ট ফাউন্ডেশনটি। আর আপনি চাইলে ফ্লোরমারের শপে গিয়েও দেখে আপনার শেইড বুঝে ফাউন্ডেশন নিতে পারবেন। অনলাইন হোক বা শপ, যেখান থেকেই কিনুন আপনি পাবেন বিউটি এক্সপার্টের পরামর্শ।
শুধু স্কিন টাইপ বুঝে ফাউন্ডেশন ব্যাবহার করলেই যে মেকাপ স্মুদ দেখাবে তা কিন্তু না। স্মুদ লুকিং মেকাপের জন্য দরকার পারফেক্ট ব্লেন্ডিং। বিউটি ব্লেন্ডার বা ফাউন্ডেশন ব্রাশ দিয়ে ভালোমতো ফাউন্ডেশন ব্লেন্ড করতে হবে একটা স্মুদ বেইসের জন্য। ফাউন্ডেশন ব্লেন্ডের ক্ষেত্রে হালকা হাতে ড্যাব করে ব্লেন্ড করতে হবে। ঘষে ঘষে ফাউন্ডেশন ব্লেন্ড করতে গেলে অনেক বেশি হার্শ লাইন থেকে যেতে পারে এবং মেকাপ স্কিনে ঠিকমতো বসতে চাইবে না।
হাইলাইটার – ডিউয়ি লুকের জন্য অবশ্যই যেই জিনিসটি ব্যাবহার করতে হবে তা হলো হাইলাইটার।
ফাউন্ডেশন যেমনই ব্যাবহার করা হোক না কেনো শেষে হাইলাইটার ব্যাবহার না করলে সেই এক্সপেক্টেড ডিউয়ি লুকটা যেনো আসেই না। পাউডার হাইলাইটার বা লিকুইড হাইলাইটার যেটাই ব্যাবহার করা হোক না কেনো হাইলাইটার ব্যাবহারে স্কিনে আসবে শিমারি, ডিউয়ি ভাব।
লিকুইড হাইলাইটার চাইলে অল্প পরিমানে নিয়ে ফাউন্ডেশন এর সাথে মিশিয়েও ব্যাবহার করা যায়। ফ্লোরমারে পেয়ে যাবেন লিকুইড ইলুমিনেটর, পাউডার ইলুমিনেটর এবং স্টিক হাইলাইটার। আপনার পছন্দমতো যেকোনো একটি হাইলাইটার নিয়ে অ্যাপ্লাই করুন চিক বোনসে, নাকে এবং কপালে। ব্যাস! তারপর দেখুন আপনার ডিউয়ি পারফেক্ট লুকটি একদম রেডি। ফ্লোরমার লিকুইড ইলুমিনেটর আমার ব্যাবহার করা ওয়ান অফ দ্য বেস্ট হাইলাইটার। বাজেটের মধ্যে একমাত্র ফ্লোরমারেই পাবেন হাই-এন্ড ফিনিশিংয়ের প্রডাক্ট। হাইলাইটার যেনো ভালোভাবে ব্লেন্ড হয় তা অবশ্যই ভালো মতো লক্ষ্য রাখতে হবে।
সেটিং স্প্রে – হাইলাইটার দিয়েই মেকাপ শেষ ভাবলে হবে না। ফাউন্ডেশন, পাউডার, ব্লাশ, হাইলাইটার সবকিছু অ্যাপ্লাই করার পর সেটিং স্প্রে না দিলে অনেক হয় মেকাপে হার্শ লাইন দেখা যেতে পারে। সেটিং স্প্রে না দাওয়ার কারণে মেকাপ দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। সেটিং স্প্রে দিলে সব প্রোডাক্ট মেল্ট হয়ে স্কিনের সাথে মিশে যাবে যাতে মেকাপ দেখাবে অনেক স্মুদ আর আপনার হাইলাইটার হবে আরো বেশি গ্লোয়িং।
ফ্লোরমার থেকে নিয়ে নিতে পারেন আপনার সেটিং স্প্রে- টি।
মেকাপ প্রেমীদের মেকাপ যতখন পারফেক্ট না হবে ততক্ষন তাদের মেকাপ পারফেক্ট করার চেষ্টার শেষ থাকেনা। কিন্তু আসলে পারফেক্ট মেকাপ পেতে লাগবে পারফেক্ট প্রডাক্ট।
আর কোন ব্যান্ড থেকে নিলে কি নিলে ভালো হবে তা নিয়ে চিন্তা করে সময় নস্ট না করে কিনে ফেলুন ফ্লোরমার থেকে। কারন এক ব্র্যান্ডেই যখন বেস্ট সব প্রডাক্ট পেয়ে যাচ্ছেন তখন আর চিন্তা কিসের!
ফ্লোরমারের প্রতিটি প্রডাক্ট আপনাকে দিবে আপনার কাঙ্ক্ষিত স্মুদ এবং ডিউয়ি লুক। এছাড়াও স্কিন যখন ভেতর থেকে হাইড্রেটেড হয় তখন মেকাপ করতে খুব বেশি ইফোর্টও কিন্ত দেয়া লাগে না।তাই রোজ একটু হলেও স্কিন কেয়ার করা উচিত। তবে অবশ্যই স্কিন কেয়ারের ক্ষেত্রেও আপনার স্কিন টাইপ বুঝে স্কিন কেয়ার করবেন। এবং মেকাপ করার পর অবশ্যই সঠিক নিয়মে মেকাপ ক্লিন করতে হবে তা নাহলে স্কিন আস্তে আস্তে ভেতর থেকে ড্যামেজ হয়ে যাবে।
লিখেছেন –
রাবেয়া চৌধুরী পিয়া